আমৃত্যু ১ টাকায় চিকিৎসা দিতে চান ডা. সুমাইয়া
নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে দিনের বাকি সময় ১ টাকায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন রাজশাহীর মেয়ে ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। পিতা-মাতার ইচ্ছাতে প্রায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন তিনি। ২০২০ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করা এ চিকিৎসক জানালেন শত কষ্ট হলেও এভাবে আমৃত্যু রোগীদের পাশে থাকতে চান তিনি। আজ সোমবার (৯ জানুয়ারি) মেডিভয়েসের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানান তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাহেদুজ্জামান সাকিব।
পিতামাতার ইচ্ছাতে এমন উদ্যোগ
ছোটবেলা থেকেই বাবার ইচ্ছা ছিল, মেয়েকে চিকিৎসক বানাবেন এবং মেয়ে চিকিৎসক হয়ে বিনামূল্যে মানুষকে সেবা দিবে। বাবার ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতেই মাত্র নামমাত্র ফি এক টাকায় রাজশাহীর সাহেববাজার, মনিচত্বর এলাকায় চিকিৎসেবা দেওয়া শুরু করেছেন নবীন এ চিকিৎসক। যে ফি নিচ্ছেন, সেটিও নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে ব্যয় করেন বলে জানান ডা. সুমাইয়া।
জনসেবার আকাঙ্খা ছোট থেকেই
ছোটবেলা থেকেই জনসেবামূলক কাজে আগ্রহী সুমাইয়া জানান, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তিনি যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে। নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের সাহায্য করে যাচ্ছেন। নিজের আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে চান হতদরিদ্র মানুষের সেবায়।
আমৃত্যু এমন সেবা দিতে চান
জনসেবামূলক কাজে আমৃত্যু জড়িয়ে থাকতে চান নবীন এ চিকিৎসক। তিনি জানান, ‘যতদিন বেঁচে আছি, এমন সেবা দিয়ে যাবো। আমার প্রতিষ্ঠানটি একেবারেই নতুন, তারপরও আলহামদুলিল্লাহ অনেকে সেবা দিতে পারছি। প্রচারণা হলে হয়তো আরও বেশি মানুষকে সেবা দিতে পারবো।’
আনন্দ পান মানবসেবায়
নিজের কর্মস্থল, পরিবার ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন ডা. সুমাইয়া। নিজের কাছে বাড়তি কোনো চাপ মনে হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি চিকিৎসক শিক্ষাজীবন থেকেই চাপ নিতে অভ্যস্থ। তাই আমার কাছে এসব কখনো চাপ মনে হয় না। বরং মানুষের সেবা করতে পেরে আনন্দ পাই।’
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
রাজশাহীর মেয়ে সুমাইয়া শিশু শ্রেণী থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন স্থানীয় মুজিব মিশন একাডেমী থেকে। ২০১২ সালে এসএসসি পাশ করে রাজশাহী নিউ গভর্মেণ্ট ডিগ্রী কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হন। ২০১৫ সালে এমবিবিএসে ভর্তি হন রাজশাহী ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজে। ২০২০ সালে এমবিবিএস পাস করে গত বছর ইন্টার্ন শেষ করেছেন তিনি। প্রাইভেট একটি ক্লিনিকে চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিসিএসের।
এসএস